প্রকাশনা ও গবেষণা
কুরআন ও হাদীসের আলোকে খতমে নবুওয়তের অকাট্য প্রমাণ এবং কাদিয়ানী ফেতনার যুক্তি ভিত্তিক খণ্ডন আমাদের প্রকাশনাগুলোতে নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
আমাদের প্রকাশিত গ্রন্থمَا كَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنْ رِّجَالِكُمْ وَلٰكِنْ رَّسُوْلَ اللّٰهِ وَخَاتَمَ النَّبِیّٖنَ ؕ وَكَانَ اللّٰهُ بِكُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمًا
মুহাম্মদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেদিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।
খতমে নবুওয়ত(নবুওয়তের পরিসমাপ্তি) হলো ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক, অকাট্য ও সর্বসম্মত আকীদা(বিশ্বাস)। এই আকীদা অনুসারে, হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ) হলেন সর্বশেষ নবী ও রাসূল। তাঁর মাধ্যমে নবুওয়ত ও রিসালাতের পবিত্র ধারা চিরতরে সমাপ্ত হয়েছে। কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নতুন নবী বা রাসূলের আগমন ঘটবে না। কুরআন, হাদীস এবং উম্মতের ইজমা(ঐকমত্য) দ্বারা এই বিশ্বাস সুপ্রতিষ্ঠিত।
কুরআন ও হাদীসের আলোকে খতমে নবুওয়তের অকাট্য প্রমাণ এবং কাদিয়ানী ফেতনার যুক্তি ভিত্তিক খণ্ডন আমাদের প্রকাশনাগুলোতে নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
আমাদের প্রকাশিত গ্রন্থআমাদের নিবেদিত দাঈ ও মুনাযির(প্রচারক ও বিতর্কে অংশগ্রহণ কারী) টিম নিরলস ভাবে খতমে নবুওয়তের বার্তা জনসাধারণের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছে এবং ভ্রান্ত মতবাদীদের মোকাবিলা করছে।
দাওয়াহ দলের কার্যক্রমপথভ্রষ্ট বাতিল সম্প্রদায় কাদিয়ানীরা নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কে সর্বশেষ নবী ও রাসূল বলে মানেনা বলেই কাদিয়ানীরা অমুসলিম, কাফের।
স্বীকারোক্তি দিনআমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি যে, আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত হলো উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য ঈমানের নিরাপত্তা ও ঐক্যের মূল ভিত্তি।
কাদিয়ানি ফেতনার শুরু লগ্ন থেকে ওলামায়ে কেরাম খতমে নবুওয়তের আকীদা সংরক্ষণে সর্বোচ্চ মেহনত, ত্যাগ ও কোরবানির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বৃটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাদিয়ান এলাকায় সৃষ্ট এই ফেতনাটি মূলত সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ ও ইহুদিদের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠেছে। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের স্বাধীনতার সময় যখন মুসলমানদের স্বাধীন দেশ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় অকল্পনীয়ভাবে কাদিয়ানিদের প্রভাব সৃষ্টি হয়। সেই প্রভাব খাটিয়ে মুসলিম দেশ পাকিস্তানের ভেতরে ষড়যন্ত্রমূলক একটি কাদিয়ানি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য রবওয়া নামক এলাকায় তাদের অপতৎপরতা বিস্তার করে। ১৯৫৩ সালে কাদিয়ানিদের মোকাবেলায় তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তানে ব্যাপক আন্দোলন হয় এবং কাদিয়ানীদের প্রভাবের উপরে একটি ধাক্কা লাগে। অতঃপর ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে কাদিয়ানিদেরকে সংখ্যালঘু অমুসলিম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ১৯৮৩ সালে পুনরায় কাদিয়ানিরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ফলে ১৯৮৪ সালে কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সংবিধানে শাস্তির বিধান রেখে দুটি ধারা যুক্ত করা হয়। এরপর পাকিস্তান থেকে কাদিয়ানিদের তৎকালীন নেতা মির্জা তাহের আহমদ কাদিয়ানিদের জনক ও পৃষ্ঠপোষক লন্ডনে গিয়ে আশ্রয় নেয়। লন্ডনে গিয়ে মির্যা তাহের একটি এলাকার নাম ‘ইসলামাবাদ’ রেখে তাকে কাদিয়ানিদের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র করে এবং প্রায় শতাব্দীকাল যাবত কাদিয়ান ও রবওয়াতে চলমান কাদিয়ানিদের সালানা জলসা লন্ডনে অনুষ্ঠিত করার পায়তারা করে।
এই পরিস্থিতিতে ১৯৮৫ সালে পবিত্র মক্কা মুকাররমায় শায়েখ আল্লামা আব্দুল হাফিজ মক্কী রহ. এর বাসস্থানে তার সভাপতিত্বে মাওলানা জিয়া আল কাসেমী, মাওলানা মনজুর আহমদ চিনিউটি এবং মোঃ ইউসুফ বাট সাহেবদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পরামর্শ সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাদিয়ানিদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং লন্ডনে মির্জা তাহের আহমদের সালানা জলসা ও কাদিয়ানি ষড়যন্ত্রের প্রতিরোধে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এভাবেই কাদিয়ানিরা যখন ভারত উপমহাদেশের বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করার ষড়যন্ত্র করে, তখন কাদিয়ানি ফেতনার মোকাবেলায় খতমে নবুওয়ত আকিদা সংরক্ষণ ও মুসলমানদের ঈমান হেফাজতের উদ্দেশ্যে ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্ট গঠিত হয়। ১৯৮৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাদিয়ানী ফেতনার মোকাবেলায় মুসলমানদের ঈমান হেফাজতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও দাওয়াতমূখী কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রীয় সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংগ্রামী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্ট কাদিয়ানিদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংখ্যালঘু অমুসলিম ঘোষণা করার দাবিতে একসময় ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিল।
২০২৪ সনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কল্যাণে অর্জিত স্বাধীন ও মুক্ত বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্ট এর কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমীর সৌদি শায়েখ মাওলানা আব্দুর রঊফ বিন আব্দুল হাফিজ মাক্কী এবং কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হযরত মাওলানা ড. আহমাদ আলী সিরাজ মাদানী এর শুভাগমনের মধ্য দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্ট নতুনভাবে তার যাত্রা শুরু করছে। দেশের সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী মুসলমানদের ঈমান হেফাজত এবং কাদিয়ানি ফেতনায় আক্রান্ত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর হেদায়েতের ফিকিরে গবেষণামূলক দাওয়াত-মুখী কার্যক্রম এর মূখ্য ভূমিকা। পাশাপাশি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের ধর্ম ইসলামের হেফাজত, কাদিয়ানিদের নিজস্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিমিত্তে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানিদের সংখ্যালঘু অমুসলিম ঘোষণার দাবি আদায়ে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্ট রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাবে, ইনশাআল্লাহ। খতমে নবুওয়ত আকীদা সংরক্ষণের মহান সংগ্রামে নবী প্রেমিক তৌহিদি জনতাকে জানমাল দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহবান জানাচ্ছি।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরি মিলনায়তনে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের উদ্যোগে আগামী ১৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক খতমে…
Read more
খতমে নবুওয়ত(নবুওয়তের পরিসমাপ্তি) হলো ইসলাম ধর্মের একটি মৌলিক, অকাট্য ও সর্বসম্মত আকীদা(বিশ্বাস)। এই আকীদা অনুসারে, হযরত মুহাম্মাদ(সাঃ) হলেন সর্বশেষ নবী ও রাসূল।